MUKTOHASI

বোরকাওয়ালি মিষ্টি বউ (পর্ব -৪)



পিচ্চিটার দেওয়া বার্তার পর মনে মনে আবার গাড়ি চালাতে লাগলাম।

কেন জানি না পিচ্চিটার জন্য আমার মনের টান বাড়ছে।

আমি এখুনি তার কাছে ছুটে যেতে চাই। কিন্তু আমি কি করতে পারি?

আমি চাইলেও যেতে পারি না।

পিচ্চিটা একটা ইচ্ছা প্রকাশ করছে আর আমি যদি সেটা পূরণ করতে না পারি তাহলে ওর ভালোবাসা পাবো কি করে।

যত কষ্টই হোক না কেন, অন্য একদিন তার থেকে দূরে থাকব।


আমি মনে মনে তার কথা ভেবে গাড়ি চালাচ্ছি।

ঢাকায় এসে প্রথমে অফিসে গেলাম।

আমি একটু বিশ্রাম নিলাম। আমি আমার ঘড়ির দিকে তাকালাম

প্রায় বারোটা বাজে।


আজ বাদে কাল আমার বিয়ে কিন্তু কাউকে দাওয়াত করা হয়নি।

আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে কি না কেউ জানে না।

পিচ্চিটা না মানলে এতক্ষণে হয়তো সবাই জেনে যেত।


যাই হোক, আমি এটা নিয়ে ভাবছি না। রাতে আবার গ্রামের বাড়িতে ফিরতে হবে।

কিন্তু আপনি তাদের বাড়িতে যেতে পারবেন না।

আমাদের নিজেদের বাড়িতে যেতে হবে। আর সেখানে এক রাত কাটাতে হবে।


অপেক্ষায়...? কবে কেটে যাবে আরেকটা দিন।

যে অপেক্ষা করতে জানে সে-ই জানে যে কাউকে মন থেকে ভালোবাসতে হয়।

আর যে ভালোবাসতে জানে সে জানে কিভাবে অপেক্ষা করতে হয়।


ম্যানেজারকে সব কাজ বুঝিয়ে অফিস থেকে বের হলাম।

কেনাকাটা করতে যাওয়া উদ্দেশ্য।

অফিসের পাশে একটা বড় শপিং মল ছিল তাই হেঁটে চলে এলাম।


প্রথমে কাপড়ের দোকানে গেলাম।

খুব সুন্দর একটা শাড়ি দেখতে পেলাম।

শুনেছি মেয়েরা নীল রং পছন্দ করে।

তাই একটা নীল শাড়ি কিনলাম যেটা খুব সুন্দর লাগছিল।

আমি জানি না সে এটা পছন্দ করবে কিনা। কিন্তু আমি এটা অনেক পছন্দ.


তারপর আরো কিছু কিনলাম।

মায়ের কথা মতো কিছু সোনার গয়না কিনলাম।

আম্মার আসার আগে, তিনি এক টুকরো গহনার গায়ে লিখে দিয়েছিলেন যে তার কী প্রয়োজন, তাই কেনা কঠিন ছিল না। কারণ মা ভালো করেই জানে। গয়না সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই।


কেনাকাটা শেষ করে শপিংমল থেকে বের হলাম।

বাড়ির দিকে তাকালেই চোখ কপালে উঠে গেল।

কেনাকাটা করতে করতে কখন দুটো বেল বেজে উঠল বুঝতেই পারিনি।

এখন হয়তো মা জননী খায়নি। কারণ আমি জানি লাঞ্চ না করা পর্যন্ত কেউ খাবে না। এবং তিনি আমার মা


এবং আবার, আজ থেকে, ছোটটি আমার জন্য থাকবে।

এমন করলে কি হবে। সবাই এক ব্যক্তির জন্য খায় না।

নিজেকে গালি দিতে লাগলাম।

আমিও ক্ষুধার্ত।

তাই প্রথমে গিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম।


খাবার অর্ডার দিতেই ফোন বেজে উঠল।

বুঝেছি. আমার মা ছাড়া আর কেউ করেনি। তাই তাড়াতাড়ি ফোন রিসিভ করলাম।

মা বললেন হ্যালো

- বাবা, আপনি কিছু খেয়েছেন (মা)।

- আমি খেতে বসলাম। তুমি খাও (আমি)

-আচ্ছা তুমি খাও আর সাবধানে যাও কিন্তু (মা)

- আচ্ছা.. কিন্তু তুমি জানো না আমি তোমার হাত ছাড়া খেতে পারি না (আমি)

- এখন বলছ আজকে ছাড়া, কাল বউ মায়ের হাতের খাবার খেতে পছন্দ করবে না, তাহলে বউয়ের (মা) হাতের খাবার খেতে ভালো লাগবে।

- এটা কোনদিন ঘটবে না. আমি সবসময় আপনার হাতে খেতে চাই। (আমি)

-বলতে হবে না, চুপচাপ খাও (আম্মু)।

- ঠিক আছে..... (আমি)


এবার একটু সাহস নিয়ে মাকে জিজ্ঞেস করলাম।

- মা খেয়েছে, (আমি)

আমার কথা শুনে মা হেসে বললেন

- না, তুমি... ওহ... তুমি খাওনি। আমাকে বললেন যতক্ষণ না খাবেন। (মা)


এবার একটু বিব্রতবোধ করলাম, কিন্তু মা সব জানে।

তাই একটু সাহস নিয়ে আবার মাকে বললাম

- মা তুমি ফোন ধর, ওকে ডেকে খাও যাতে আমি শুনতে পারি।

- বাহ, বাহ, আমার ছেলে দেখছি, তার বউ দুদিনে পাগল হয়ে গেছে। (মা)

- তার মানে আম্মু (আম্মু)।

(আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলতে লাগলাম)


মা খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছে যে আমার এখন লজ্জা লাগছে।

তাই মা বললেন

- থাক আর লজ্জা পেও না।

- হুম (আমি)

তারপর আম্মু সোনিয়াকে ডাকতে লাগল

- সোনিয়া.. মা সোনিয়া এদিকে আয়, (মা) (জোরে)

- আন্টি আসছে (সোনিয়া)

- কিরে মা আজকে ছাড়া কাল আমার ছেলের বউ হবে আর তুই এখনো আমাকে আন্টি বলে ডাকিস। আমি তোমাকে মা (মা) ডাকতে পারি না।

- আচ্ছা, আমি ওকে মা (সোনিয়া) বলে ডাকবো।

- হুম, যাও এখন খাও (আম্মু)।

- না, আম্মু খেয়েছে (সোনিয়া)।

- হ্যাঁ আল এটা আমার কাছে বেশ বাজে মনে হচ্ছে, বিটি মনে হচ্ছে আমার জন্য নয়।

- যেখানে তিনি এখন? সে সবে শহরে (সোনিয়া) পৌঁছেছে।

- হ্যাঁ আল এটা আমার কাছে বেশ বাজে মনে হচ্ছে, বিটি মনে হচ্ছে আমার জন্য নয়।

-আচ্ছা.. মা তুমি খাবে না..? তুমি সেদিন সকাল থেকে কিছু খাওনি (সোনিয়া)

- হ্যাঁ আল এটা আমার কাছে বেশ বাজে মনে হচ্ছে, বিটি মনে হচ্ছে আমার জন্য নয়।


এরপর সোনিয়া চলে যায়।

আর আমার মা আমাকে বললেন

- সম্পন্ন ..? এখন তুমি খুশি, এখন তুমি খাও আমি সাবধানে আসবো তুমি এলে (মা)

- ঠিক আছে মা, হবে?

তারপর মা ফোন রেখে দিল।

এবং আমি রাতের খাবার টেবিলে বসে সে যা বলেছে তা শুনছি।

আমি এই ছোট জিনিস রেকর্ড করেছি.

আবার শুনলাম কথাগুলো খুব ভালো। .

মনের মধ্যে অজানা সুখের ঝড় বয়ে যায়।

আমি যতবার তার কথা শুনি, আমি প্রেমে পড়ে যাই। তার প্রতি ভালোবাসা এতটাই বেড়েছে যে এখন প্রতি মুহূর্তে তার কথা মনে পড়ছে।


তার কথা ভেবে খাওয়া-দাওয়া শেষ করলাম।

তারপর রেস্টুরেন্টের বিল পরিশোধ করে চলে গেলাম।

অফিসে গেলাম।

দুপুরের খাবারের পর আমি সাধারণত বাসায় যাই এবং দুই ঘণ্টা ঘুমাই।

কিন্তু আজ আর বাসায় যাইনি।

আমি কেবিনে এসে চেয়ারে বসে হেলান দিয়ে বসলাম।


কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম বুঝতেই পারিনি।

ম্যানেজার এসে 12টা বেজে গেল।

তিনি একটি ফাইল স্বাক্ষর করতে এসেছিলেন।

কি আর করা আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। তারপর ফাইল দেখে সাইন করে ম্যানেজারকে বললাম

- ম্যানেজার সাহেব, আমি কয়েকদিনের জন্য গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি, তাই আশা করি আমার অনুপস্থিতিতে সব দেখবেন ও শুনবেন।

- হ্যাঁ স্যার আপনি নিরাপদে যেতে পারেন! (ব্যবস্থাপক)


তারপর তিনি চলে গেলেন।

কতক্ষণ ফেসবুকে বসে আছি?

গাড়ি থেকে নামলাম ৫টায়।

গ্রামে যাওয়ার জন্য।


হাঁটতে হাঁটতে চারিদিকে অন্ধকার নেমে আসে।

রাত ৯টায় বাসায় পৌছালাম।

তারপর ঘরের ভিতরে ডিউকের সোফায় বসলাম।

ফোনটা বের করে মাকে ডাকলাম..

পাওয়ার পর বললাম

- মা আমি বাসায় আছি। আপনি তাদের যত্ন নিন. (আমি)

- আমি মানুষকে মারছি। তুমি তাদের সবকিছু বুঝিয়ে দাও। আর শোন, তাজা কিছু খেয়ে নাও তাড়াতাড়ি (মা)

- আচ্ছা, মা (আমি)।

তারপর মা ফোন কেটে দিল। আমি ফ্রেশ হতে গিয়েছিলাম.

আমি যখন ফ্রেশ হচ্ছি, তখন দেখলাম 10টা বেজে গেছে।

তাই রান্নাঘরে যাওয়ার সময় দরজার বেল বেজে উঠল।

হয়তো মা লোক পাঠিয়েছে।

আমি দরজা খুলে দেখলাম: চাচা, খালামণির বাড়ির দারোয়ান এসেছে।

ছোটবেলা থেকেই তাকে আমরা কাকা বলে ডাকি। দীর্ঘদিন ধরে তাদের বাড়িতে দারোয়ান হিসেবে কাজ করছেন।


যাই হোক, আমি তাকে সব বুঝিয়ে বললাম। তারপর তিনি চলে গেলেন।

রান্নাঘর থেকে যতটা সম্ভব ফল খেয়েছি।


তারপর আমার রুমে চলে গেলাম। আমি বিছানায় হেলান দিয়ে শুয়ে পড়লাম।

বাইরের চাদরের আলো জানালা দিয়ে সোজা আমার মুখে আসছে।

আমি চাদের দিকে তাকিয়ে ভাবছি।

- আচ্ছা, আমি সবসময় তার কথা ভাবি এবং সে আমার সম্পর্কে সব সময় কি ভাবে। .

এত ভালোবাসলে হয়তো ভাবতে হবে।

আমি কাউকে জানাতে বা বুঝতে চাই না শুধুমাত্র একটি খারাপ মন। মনের কথা মনের মধ্যে চাপা পড়ে যায়।

আচ্ছা, সে কি এখন জেগে আছে? তুমি এখন আমাকে কি ভাবছ?

হঠাৎ মনে পড়ল না খাওয়া

- আমি ভুলে গেছি. না খেয়ে থাকলে কে বলবে না খেয়ে রাত কাটাবো।


সাথে সাথে মাকে ফোন দিলাম।

পাওয়ার পর মাকে বললাম

- মা, তুমি (আমাকে) খেয়েছ।

- তুমি খেয়েছ (মা)।

- হ্যাঁ মা, খেয়েছি। এখন তুমিও খাও, পিলজ। (আমি)।

- ঠিক আছে, তাহলে তুমি ঘুমাও (মা)।

- আচ্ছা (আমি)।


কলটা কেটে গেল।

বাবা ভাগ্যিস মনে না থাকলে হয়ত আজ সারা রাত দুইজন না খেয়ে থাকতেন।

তারপর যখন ঘুমিয়ে পড়লাম। বুঝতে পারিনি।


সকালে হঠাৎ মোবাইল ফোনটা বেজে উঠলো।


মনে হয় অফিস থেকে মেসেজ আসছে। কিছুক্ষণ পর মেসেজ আসা বন্ধ হয়ে গেল।

কিন্তু ফোনটা বেজে উঠল।

আমি সোনিয়ার নাম্বারটা হাতে নিয়ে ওর নাম্বারটা দেখলাম।

আমি লাফিয়ে উঠে বিছানায় বসলাম।

দেরি না করে কল রিসিভ করলাম।

আপনি কি হ্যালো বলার সাথে সাথে কল কেটে দিলেন????

ফোনটা ফেলে দিতে চাইলাম।


আবার একটা মেসেজ এলো।

আমি দৃশ্যটি করেছি। আজ পরপর চারটি বার্তা।

সে বলেছিল:

আসসালামলাইকুম...

অনেকেই ঘুমিয়ে পড়েছেন, এখন উঠুন

যাও, নামাজের পর এসো। আজ থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করুন। নইলে বিয়ে করবো...

শেষ মেসেজটা ছিল..: কল রিসিভ করলে কেন? তোমাকে জাগানোর জন্য ফোন করেছি, কথা বলার জন্য নয়।

আর নামাজের পর ঘুমাবেন না। একটু হাঁটলেই শরীরের ক্লান্তি দূর হবে।

আর নাস্তা কর। আল্লাহ মঙ্গল করুন...!


মেসেজগুলো পড়ার পর হাসতে হাসতে পেট ব্যাথা হয়ে গেল।

আমার মনে হয় পিচ্চিটা জানে আমি ওর প্রতি দুর্বল হয়ে গেছি। সেজন্য আপনি বারবার এটা করেন। তুমি না করলে আমি তোমাকে বিয়ে করব না।


তিনি যা বলেছেন তা বলা যাক ভালোর জন্য

এমন জীবনসঙ্গী পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার যে আপনাকে সকালে ঘুম থেকে উঠিয়ে নামাজের পর যেতে বলবে।


তারপর আর কিছু না ভেবে মুখে হাসি নিয়ে উঠে ফ্রেশ হয়ে নামাজ পড়তে গেলাম।

নামাজ শেষ করে বাড়ির পেছনের মাঠের খোলা হাওয়ায় হাঁটছিলাম


এমন সময় হঠাৎ পেছন থেকে কেউ

স্যালুট করেছে

- আসসালামলাইকুম....... (______)


বোরকাওয়ালি মিষ্টি  বউ (পর্ব -৫) শেষ পর্ব

© All Rights Reserved
Made with Forhad Elahe