চীনা বাদাম চাষ বদলে দিতে পারে আপনার ভাগ্য

How To Make Money: বাদাম থেকেই হাতে আসবে মোটা টাকা


আমাদের দেশে চীনাবাদাম একটি জনপ্রিয় ও অর্থকরী ফসল হিসেবে সুপরিচিত। শুধু ভোজ্য তেল বীজই নয়, কাঁচা ও ভাজা বাদামের জুড়ি নেই। চীনা বাদামে রয়েছে প্রেট্রিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও আয়রন যাহা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক।

নদী বেস্টিত এলাকায় বেলে -দোঁয়াশ মাটিতে নদী পাড়ের বেশীর ভাগ জমি বাদাম চাষ উপযোগী। চরাঞ্চলে বাদাম চাষ যেমন বেশী, তেমনি বাম্পার ফলন। ২/৩ টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে জমি প্রস্তুত করতে হয়। প্রস্তুতকৃত জমিতে একবার বাদামের বীজ বপন করলেই হয়। অন্যান্য ফসলের মতো এতো পরিচর্যা করার প্রয়োজন হয় না। এই ফসলে অল্প খরচ ও পরিশ্রমে অধিক লাভবান হওয়ার সুযোগে চরাঞ্চলে বাদাম চাষের পরিধি বেড়েই চলছে।

বিভিন্ন লাভের চীনা বাদাম রয়েছে। যেমন বাসন্তী বাদাম, ত্রিদানা বাদাম, ঝিংগা বাদাম ও বারি চীনা বাদাম-৫.৬.৭.৮ও৯। উপযুক্ত জাত বাছাই পূর্বক এপ্রিল মে মাসে খরিপ মৌষুমে ও আশ্বিন-কার্তিক মাসে রবি মৌসুমে চীনা বাদাম বপন করা হয়। র্পোন করার আগে বাদামের খোসা ছাড়িয়ে নিতে হয় খোসা ছাড়ানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন বীজের  উপরের পাতলা পর্দা পড়ে না যায়। 

ভাল ফলন পাওয়ার জন্য জমি প্রস্তুত করার সময় পরিমান মত সার প্রয়োগ করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। গাছে ফুল আসার সময় আর একবার ইউরিয়া সার প্রয়োগ করা। বাদামের বীজ সারিবদ্ধ ভাবে রোপন করা। লক্ষ্য রাখতে হবে যে, বীজ রোপনের সময় যাতে জমিতে রস থাকে। চরাঞ্চলে জমিতে সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। রবি মৌসুমে অবস্থা বুঝে জমিতে এক বার সেচ দেওয়া যাইতে পারে। মাটি শ্ক্ত হয়ে গেলে নিড়ানী দিয়ে মাটি আলগা করে দিলে ভাল হয়।

অতিরিক্ত খরা ও বন্যার মত প্রাকৃতিক দুযোর্গে না পড়লে বাদাম চাষে লাভবান হওয়া খুবই সহজ। আগাম বন্যায় পানিতে তলিয়ে গেলে বাদামের ক্ষতি হয়। নদী এলাকায় অন্যান্য ফসলের আবাদ করা খুবই ঝুঁিকপূর্ণ। অনেক সময় নদী ভাঙ্গনে জমি চলে যেতে পারে নদী গর্ভে। তাই এই সকল জমিতে অল্প খরচ ও সময়ে বাদাম চাষ উপযোগী। বাদাম চাষে প্রতি বিঘায় সাধারনত খরচ হয় প্রায় ৬/৭ হাজার টাকা এবং বিঘা প্রতি ফলন পাওয়া যায় ৬/৭ মণ খরচ বাদ দিয়ে বিঘা প্রতি লাভ পাওয়া যায় প্রায় ৫/৬ হাজার টাকা।

বাদাম গাছের লতা হলুদ হইতে শুরু করলে বাদামে পরিপঙ্খতা আসছে বুঝা যাবে। তাছাড়া গাছের গোড়া খুঁেড় পাকা বাদামের গাঢ় রং বুঝা যাইবে। নদীতে পানি দেরীতে আসলে সময় মত বাদাম তোলা যায়। সময় মত জমি থেকে গাছ তুলে এনে বাদাম ছড়িয়ে পরিস্কার করে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। ৩/৪ দিন ভালভাবে বাদাম শুকিয়ে নেওয়ার পর গুাদামজাত করা।
Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url