যারা চুপচাপ স্বভাবের তাদের জন্য আয় করার সেরা পেশা কি?


অন্তর্মূখী স্বভাবের ব্যক্তিরা মূলত অল্প কথা বলে, আরেকজনের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে, যেকোনো কিছু বলার আগে বারবার ভেবে নেয় এবং খুবই কম মানুষের সাথে চলাফেরা করে। যেখানে বহির্মূখী স্বভাবের ব্যক্তিরা ক্রমশ নেটওয়ার্ক তৈরি করার মাধ্যমে সমাজে টিকে থাকে, সেখানে অন্তর্মূখী স্বভাবের ব্যক্তিরা অনেক পিছিয়ে পড়ে।

কিন্তু অন্তর্মূখী স্বভাবের ব্যক্তিরা (অ্যামেরিকার প্রায় ৫০ শতাংশ) লিডার, থিংকার ও ইনভেটর হিসেবে গড়ে উঠে। কারণ, তারা যতটা না কাজ করে তার থেকে বেশি চিন্তাভাবনায় ব্যস্ত থাকে, যেদিক থেকে বহির্মূখী স্বভাবের ব্যক্তিরা পিছিয়ে পড়েন। সুতরাং, আপনি যদি একজন অন্তর্মূখী স্বভাবের ব্যক্তি হয়ে থাকেন এবং চাকরিতে টিকে থাকতে না পারেন, তাহলে মন খারাপ করবেন না।

আপনার পার্সোনালিটিকে সম্মান করতে শিখুন ও নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রাখুন। আজকের আর্টিকেলে আমি এমন কিছু মাধ্যমের কথা বলবো, যেগুলো দ্বারা খুব সহজেই আপনার মতো অন্তর্মূখী স্বভাবের ব্যক্তিরা কোনো ধরণের চিন্তা ভাবনা ছাড়াই আয় করতে পারবেন।

নিউট্রিশনিস্ট: নিউট্রিশনিস্টরা মূলত হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ কিংবা হেলথকেয়ার ফ্যাসিলিটিগুলোর পেছনের দিকে কাজ করে থাকেন। তাছাড়া বেশিরভাগ নিউট্রিশনিস্ট গ্রুপই ছোটো হয়। নিউট্রিশনিস্টরা নিজে নিজেই কাজ করতে পারেন ও ঘরে বসে থেকেও কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। নিউট্রিশনিস্টরা ডায়েট, খাদ্য, নিউট্রিশন এবং লাইফস্টাইলের উপর কাজ করে থাকেন।

একজন নিউট্রিশনিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আপনাকে বোর্ড অফ নিউট্রিশন থেকে লাইসেন্স অর্জন করতে হবে। একজন নিউট্রিশনিস্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আপনাকে ডায়েটেটিক্স, নিউট্রিশন অথবা স্বাস্থ্যখাতের যেকোনো বিষয়ের উপর ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। এছাড়াও আপনাকে যেকোনো ডায়েটেটিক্স প্রোগ্রামের সার্টিফিকেশন অর্জন করতে হতে পারে। একজন ডায়েটেশিয়ানের বাৎসরিক বেতন সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

ট্রান্সক্রিপশনিস্ট: অন্তর্মূখী স্বভাবের ব্যক্তিদের জন্য এই চাকরিটি অসাধারণ একটি আয় করার মাধ্যম হতে পারে। কারণ, এই কাজ আপনি ঘরে বসে এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব চিন্তাভাবনায় করতে পারবেন। এই কাজের জন্য আপনার দ্রুত টাইপিং করার দক্ষতা থাকা লাগবে। যদিও বিভিন্ন কোম্পানিতে এর বেতনে পার্থক্য হতে পারে, কিন্তু একজন ট্রান্সক্রিপশনিস্টের বাৎসরিক বেতন সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

তাছাড়া এই কাজের জন্য আপনার উচ্চ কোয়ালিটি সম্পন্ন হেডফোন, একটি কম্পিউটার ও ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যারের উপর দক্ষতা থাকতে হবে। এই ধরণের কাজ খোঁজার জন্য আপনাকে ফ্লেক্সজবস, গ্লাসডোর, মনস্টারসহ বিভিন্ন জব বোর্ডে অ্যাকাউন্ট করতে হবে।

অ্যাকচুয়ারি: একজন অ্যাকচুয়ারি মূলত ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে কাজ করে থাকেন। একজন অ্যাকচুয়ারি বিভিন্ন কোম্পানির কস্ট অফ রিস্ক ও অনিশ্চয়তাগুলোকে অ্যানালাইজ করে থাকেন এবং ব্যবসা ও ক্লায়েন্টের জন্য বিজনেস পলিসি তৈরি করে থাকেন। সুতরাং, আপনি যদি সংখ্যা ও অ্যানালাইসিস নিয়ে আগ্রহী হয়ে থাকেন, তাহলে এই পেশা আপনার জন্য উপযুক্ত। তাছাড়া এই চাকরিতে আপনাকে ওয়ান অন ওয়ান কমিউনিকেশন করতে হবে, যার ফলে অন্তর্মূখীদের জন্য এটা অনেক বড় একটি সুবিধা।

একজন অ্যাকচুয়েরি হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে আপনাকে গণিত, পরিসংখ্যান ও বিজনেস অ্যানালাইসিসের উপর দক্ষ হতে হবে। কোম্পানিভেদে উপরের বিষয়গুলোতে ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট অর্জন করতে হতে পারে। একজন সার্টিফাইড প্রফেশনাল অ্যাকচুয়ারি হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে আপনাকে বেশ কিছু পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। একজন অ্যাকচুয়ারির বাৎসরিক বেতন সর্বোচ্চ ৬০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

চ্যাট সাপোর্ট: কখনো খেয়াল করেছেন যে, বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ঢোকার সাথে সাথেই পপআপের মাধ্যমে আপনার স্ক্রিনে লেখা আসে, “হ্যালো, আমি আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?” যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটা চ্যাটবোট হয়ে থাকে কিন্তু বর্তমানে এই কাজের জন্য সত্যিকার অর্থেই মানুষ নিয়োগ দেয়া হয়।

একজন চ্যাট অ্যাসিস্টেন্ট আপনার সাথে সরাসরি মেসেজিংয়ের মাধ্যমে আপনার সমস্যার সমাধান করে থাকেন। যেহেতু এই চাকরির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র চ্যাটিং করাটাই মূল কাজ ও আপনাকে আপনার আসল পরিচয়ও প্রকাশ করতে হয় না, সেহেতু এই চাকরিটি অন্তর্মূখীদের জন্য সেরা একটি মাধ্যম।

একজন চ্যাট সাপোর্ট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে হলে, আপনার একটি ইন্টারনেট কানেকশনসহ কম্পিউটার ও খুব দ্রুতগতিতে চ্যাট করার দক্ষতা থাকতে হবে। কোম্পানিভেদে এই চাকরিতে বেতনের তারতম্য দেখা যায়। যদিও অ্যামেরিক্যান কোনো ওয়েবসাইটের চ্যাট সাপোর্টাররা প্রত্যেক ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১২০০ টাকা আয় করে থাকেন।

ইলেক্ট্রিশিয়ান: একজন ইলেক্ট্রিশিয়ান তার সম্পূর্ণ দিন অতিবাহিত করে থাকেন বিভিন্ন ধরণের ইলেক্ট্রিক্যাল সিস্টেম ইন্সটল, মেইন্টেইন ও রিপেয়ারিং করায়। যেহেতু এই কাজের জন্য কোনো ধরনের ডিগ্রি এবং কারো সাথে বেশিক্ষণ কথা বলার প্রয়োজন পড়ে না, সেহেতু এই কাজটি অন্তর্মূখীদের জন্য উপযুক্ত। যদিও ইলেক্ট্রিশিয়ান হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে চাইলে আপনার নিজস্ব জেলা কিংবা বিভাগ থেকে আপনাকে লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। একজন ইলেক্ট্রিশিয়ানের বাৎসরিক আয় সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকা হতে পারে।

আর্কাইভিস্ট: একজন আর্কাইভিস্ট মূলত ইনফরমেশন স্পেশালিস্ট হয়ে থাকেন এবং বিভিন্ন লাইব্রেরি, সরকারি সংস্থা ও জাদুঘরে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার রেকর্ড সংগ্রহ করে থাকেন। যদি আপনি ইতিহাস, সংস্থা কিংবা গবেষনা করতে পছন্দ করেন তাহলে এই চাকরি আপনার জন্যই। যদিও আপনাকে মাঝে মাঝে বিভিন্ন ধরণের মানুষের সাথে কথা বলতে হতে পারে, কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই আপনাকে নিরবে সময় কাটাতে হবে। একজন আর্কাইভিস্টের বাৎসরিক বেতন সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

মেডিক্যাল রেকর্ডস টেকনিশিয়ান: একজন মেডিক্যাল রেকর্ডস টেকনিকশিয়ান বা হেলথ ইনফরমেশন টেকনিশিয়ান মূলত বিভিন্ন রোগীর তথ্য সংগ্রহ, অরগানাইজ ও ব্যবস্থাপনা করে থাকেন। এই কাজে আপনাকে কোনো মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলতে হবে না, যার ফলে অন্তর্মূখীদের জন্য এটা উপযুক্ত একটি চাকরি। একজন মেডিক্যাল রেকর্ডস টেকনিশিয়ান হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার পূর্বে আপনাকে হেলথকেয়ারের উপর ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। একজন আর্কাইভিস্টের বাৎসরিক বেতন সর্বোচ্চ ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। 
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url